মেয়েটার কি বাম গালে তিল ছিলো? নাকি ডান গালে? কিছুতেই মনে করতে পারে না আজহার ।সে চেষ্টা চালিয়ে যায় ।কিন্তু কিছুতেই মনে করতে পারে না ।হঠাত করে তাঁর খেয়াল হয় মেয়ের চেহারাটাও মনে করতে পারছে না সে । নামটাও না । অসহায় বোধ করে সে ।পায়ের আংগুল গুলো শক্ত করে শরীরের বাকি অংশে চাপ দিয়ে জোড় করে মেয়ের নাম টা মনে করার চেষ্টা করে সে । পারে না । আজহার অসহায় বোধ করে

_________________

গাড়িতে যৌথ বাহিনীর দুই সদস্য বিরক্তমুখে বসে আছে । আরেক জন গাড়ির পাশে দাড়িয়ে জল ত্যাগ করছে । অবশ্য এসব কিছু আজহারেরর দেখার কথা না ।তাঁর চোখ কালো কাপড় দিয়ে বাধা আছে । গাড়ির সামনের সীটে আনোয়ার বসে আছে ।আনোয়ার কেও আজহার দেখতে পাচ্ছে না । আনোয়ার স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতা । এই মুহুর্তে সে পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করছে । স্বাধীনতা বিরোধী ১৮ দলীয় জোট সদস্যদের বাড়ি ঘর চিনিয়ে দেবার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সে পালন করছে । কিন্তু এই মুহুর্তে তাঁর নিজের দায়িত্ব নিয়ে তাকে খুব একটা সন্তুষ্ট মনে হয় না । ঘাড় ফিরিয়ে যৌথ বাহিনীর দুই সদস্যএর দিকে তাকায় সে।তারা বিরক্ত মুখে বসে আছে ।তাঁর নিজের ও বিরক্ত লাগে ।বাইরে গিয়ে একটা সিফারেট ধরায় সে ।গত দুদিনে বড্ড ধকল গেছে । কিন্তু সে চিন্তা করছে সামনে তাঁর কপালে কি আছে ।যৌথ বাহিনী তো আর পাঁচ বছর তাকে পাহারা দিয়ে রাখবে না । ইতস্তত ভাবে কিছু দূর হেটে আবার গাড়িতে ফিরে আসে । যৌথ বাহিনীর দুই সদস্য গাড়ি থেকে নেমে গেছে । আনোয়ার কে পাহাড়ায় থাকতে বলে তারা । আনোয়ার গাড়ির ভিতরে এসে বসে । গাড়ির মেঝেতে হাত-পা বেধে ফেলে রাখা হয়েছে আজহার কে । কশে আজহারের পেটে একটা লাথি বসায় আনোয়ার । আজহার একটু ককিয়ে উঠে । বাইরে থেকে কমান্ডার হুংকার দিয়ে উঠে-“গায়ে হাত দিস না । শরীরে এক্সট্রা স্পট থাকা যাবে না কোন ।” আনোয়ার একটু হতাশ হয়ে যায় । মনে মনে আরো গোটা দশেক লাথি মারার প্রস্তুতি নিচ্ছিলো সে । দমে গিয়ে আরেকটা সিগারেট ধরায় সে । আজহার সম্পর্কে তাঁর সুঃসম্পর্কের আত্মীয় ।যার ফলে আজহারের পরিবারের খুটিনাটি আনোয়ারের জানা ছিলো । তাকে যে তাঁর বোনের বাড়িতে পাওয়া যাবে এটাও তাঁর জানা ছিলো ।সে না থাকলে আজহারকে ধরা মোটামুটি দুর্বিষহ কাজ হতো । আনোয়ারের কি মন খারাপ করা উচিত? অনুশোচনা হওয়া উচিত? মনের আনাচে কানাচে হাত চালিয়ে আনোয়ার কিছু খুজে পেলো না । রাজনীতি জিনিস টাই এমন । নিজেকে বুঝায় সে । আজকে আজহার কে ছেড়ে দিলে কাল কি আজহার তাকে বাচাবে? মনে হয় না ।আজহারের ১৫ দিন বয়সী মেয়েটার জন্য খারাপ লাগে তাঁর ।বেচারী দুনিয়াতে আসার সাথে সাথেই বাপ কে খোয়ালো । এজন্যও আজহার কে দায়ী মনে হয় তাঁর । কে তাকে ছাত্র দল করতে বলেছে? শালা বৌ-বাচ্চা নিয়ে সুখে থাক ।চুপ থাক । নাহ! রাজনীতি করা লাগবে । কশে আবার লাথি মারে আজহারের বুকে ।আজহার ককিয়ে উঠে ।”গায়ে হাত দিস না । শরীরে এক্সট্রা স্পট থাকা যাবে না কোন ।”বাইরে থেকে কমান্ডার সাহেব আওয়াজ দেয় 

_______________

কম্যান্ডার সাহেব খোলা আকাশের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকেন । গত এক মাস থেকে তিনি এই এলাকায় বিশেষ অভিযানের সাথে জড়িত । অথচ কি আজব বেপার । খোলা আকাশ দেখা হয় নাই একবার ও । তিনি মন দিয়ে আকাশ দেখেন । রাতের আকাশে একটা পাখি উড়ে যায় । কি অদ্ভুত ! কি অদ্ভুত !

আজহার কে গাড়ি থেকে নামানো হয় ।চোখের কাপড় খুলে নেওয়া হয় । আজহার আকশের দিকে তাকায় আকাশের দিকে তাকিয়ে নিজের মেয়ের চেহারা মনে করার চেষ্টা করে । আচ্ছা তিল টা কি বাম গালে ছিলো না ডান গালে? মনে করতে পারে না ।মেয়ের নাম , চেহারা কিছুই মনে করতে পারে না ।অসহায় বোধ করে সে ।আজহার কে ছুটতে বলা হয় ।এর মানে আজহার জানে । আজহার মরিয়া হয়ে আর একবার মেয়ের চেহারা মনে করার চেষ্টা করে । একটা পিস্তল এক রাউন্ড ফায়ার করে তাঁর হাতে ঝুলিয়ে দেওয়া হয় ।পিস্তলের পুরো চেম্বার খালি ।পিঠে ধাক্কা দেওয়া হয় একবার। “কুত্তার বা@ দৌড়া ” চিৎকার করে উঠে একজন !

_____________

গুলিটা আজহারের বুক ছিদ্রি করে বের হয়ে যায় ।ঠিক সেসময় তাঁর মেয়ের চেহারা তাঁর স্পষ্ট মনে পরে । “আমার মায়ের গায়ের রং টা মাশাল্লাহ!এমন গায়ের রং সবাই পায় না।” ভাবে সে ।পরের গুলিটা তাঁর ঘাড়ে লাগে ।

___________

ভোর ৫ টা । আজহারের লাশ টা টেনে গাড়িতে তুলে দেয় আনোয়ার । কম্যান্ডার সাহেব নিরাসক্ত ভাবে আকাশ দেখতে থাকেন ।পাশের জন এগিয়ে এসে একটা লিশট ধরিয়ে দেয় তাঁর হাতে । আরো কিছু নাম ।নাম গুলোর উপর অলস ভাবে চোখ ভোলান তিনি ।আনোয়ার কে পরবর্তী টার্গেটের খোজ লাগানোর নির্দেশ দেন । আবারো তিনি আকাশ দেখতে থাকেন । গাড়ি থেকে রক্ত গড়িয়ে তাঁর পায়ের কাছে এসে পরছে । চকচকে বুটের উপরে রক্তের দাগ এক অদ্ভুত নকশা তৈরী করছে । সে দিকে তাকিয়ে কম্যান্ডার সাহেব বিরক্তবোধ করেন ।এই জুতা পরিষ্কার করাও তো ঝামেলা ।রক্তের দাগ সহজে যায় না!

(গত এক মাসে গ্রেপ্তারের পর যৌথ বাহিনীর সাথে “বন্দুক” যুদ্ধে ক্রসফায়ারে মারা যাওয়া বিরোধী দলীয় নেতা কর্মীর সংখ্যা অর্ধশতাধিক । দুঃখের বিষয় বাংলাদেশের মানবাধিকার সংস্থা , মানবাধিকার কমিশন এবং মানবাধিকার কর্মীড়া ক্রস ফায়ার এবং গুমের ঘটনায় আশ্চর্য রকমের নিরবতা পালন করেন । মেইন স্ট্রীম মিডিয়াকেও এই ঘটনা গুলাতে সোচ্চার হতে দেখা যায় নাই । সর্বশেষ গতকাল ভোর পাঁচটায় ছাত্রদল নেতা আজহার ক্রসফায়ারে মারা যান । তাঁর একটি ১৫ দিন বয়সী মেয়ে আছে । তিনি ছিলেন তাঁর পরিবারের একমাত্র পুরুষ সদস্য ।শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সারা দেশে দুই শতাধিক বিএনপি নেতা কর্মীর কোন খোজ পরিবার বা দলের কাছে নাই ।তারা কি পালিয়ে আছেন নাকি গ্রেফতার হয়েছেন তা কেউ জানে না ।তবে গ্রেফতার হবার পর নিখোঁজ কর্মীর সংখ্যা ২৮৭)

Advertisements

তালিকা

Posted: February 7, 2014 in Uncategorized
-স্যার আতিক কে পাওয়া গেছে
-তাই নাকি?
-জী স্যার ।সড়কের পাশে ফেলে রেখে গেছে ।রব্বানীর মতোই । মোট ৭ টা গুলি করছে 
-ও ! আর কতজন বাকি?
-আরো ২৮ জন স্যার!
-আল্লাহ ভরসা খোজ রাখতে থাকো
-আল্লাহ ভরসা স্যার 

নুরুল ইসলাম ফোনটা নামিয়ে রাখে । কিছুটা ক্লান্ত লাগে তাঁর ।সারা রাত না ঘুমানোর ফসল । কিছুটা স্বস্তিও পায় সে । গত ২৫ বছর ধরে বিএনপি অফিসে কাজ করে সে । কতো উত্থান কতো পতন সব তো নিজের চোখেই দেখেছে । ৯০ এর গণ অভ্যত্থান , ৯১ এর নির্বাচন , ২০০১ এর নির্বাচন , ওয়ান ইলেভেন কত কিছু । কত মহাসচিব , নেতা এলো গেলো কিন্তু নুরুল ইসলাম নট আউট ।নুরুল ইসলাম আগের জায়গাতেই আছে ।বড় বড় নেতারা সব তাকে এক নামে ডাকে ।মাঝে মাঝে বেপার টা মনে করে গর্বই হয় তাঁর । দলের সব লোকজন কে মনে হয় আপনা লোক ।দলের অফিসে কাজ করতে ভালোই লাগতো তাঁর । কিন্তু নুরুল ইসলাম হাপিয়ে উঠেছে । বড় স্যার তাকে ৩০ জনের এক বিশাল লিষ্ট দিয়ে গেছে । গত ১৫ জানুয়ারীর পর থেকে এরা নিখোঁজ । সাদা পোষাকের পুলিশ পরিচয়ে ধরে নিয়ে যাবার পর এদের আর কোন খোঁজ পাওয়া যায় নাই । তাঁর কাজ হল সারা দিন ফোনের কাছে বসে থাকা আর বিভিন্ন জেলা অফিস থেকে ফোনের অপেক্ষা করা । যদি কোন খোঁজ আসে । কিন্তু খোঁজ আর আসে না । মাঝে মাঝে নিখোঁজ হওয়া লোকজনের পরিবার ফোন করে । জানতে চায় কোন খোঁজ পাওয়া গেছে কি না । লাশের খোঁজ টাও যদি পাওয়া যেত তাহলেও হতো ।ছেলের কবর কোথায় তা তো জানা যেত । নুরুল ইসলাম খোঁজ দিতে পারে না । তাঁর ক্ষমতা খুব সীমিত । এর আগেও এমন লিষ্ট এসেছে । গতবার ৫০ জনের একটা লিষ্ট এসেছিলো ।একজনের ও খোঁজ পাওয়া যায় নাই । লাশের ও না । তবে এবার মনে হচ্ছে ভাগ্য ভালো তাঁর । ৩০ জনের মাঝে প্রথম দুই জনেরই খোঁজ পাওয়া গেছে । দুজনেরই ক্ষত বিক্ষত লাশ । নুরুল ইসলাম আসলাম কে একটু ফোনের কাছে বসতে বলে । বারান্দায় গিয়ে দাড়ায় । বারান্দায় বসে আছে পুলিশের কনস্টেবল ইমরান । বাড়ি কুমিল্লা । ভালো ছেলে ।গতবার পুলিশ যখন পুরো অফিস সীল করে দিলো তখন এই ইমরান তাকে প্রেশারের ওষুধ এনে দিয়েছিলো । ইমরান তাকে দেখে উঠে দাড়ায় । 

-চাচা মিয়া ভালো/
-আল্লাহ রাখছে আর কি 
-চাচার কি মন মেজাজ খারাপ
-আচ্ছা ইমরান তোমরা যে এমনে মানুষ মারো তোমাদের খারাপ লাগে না?
-আমরা তো সরকারের চাকর চাচা । তারা যা বলবে তাই তো করতে হবে
-তাই বলে বিবেক খাটাবা না?
-চাচা , আমার ঘরে দুইটা বাচ্চা , মা ও আছে ।সাথে বউ । বিবেক খাটালে বিবেক কি এদের খাওয়ানোর ব্যবস্থা করবে?

নুরুল ইসলাম অসহায় বোধ করে । বিবেক যে কারো পেটে খাবারের ব্যবস্থা করতে পারে না সেটা সে জানে । রুমে ফিরে আসে । আসলাম নুরুল ইসলাম কে আসতে দেখে নিজের কাজে চলে যায় । নুরুল ইসলাম বসে থাকে । তাঁর হাতে ২৮ জনের নামের একটা লিষ্ট । ২৮ জন নিখোঁজ মানুষের লিষ্ট ।২৮ জন মানুষ । ২৮ টা পরিবার । কত গল্প , কত স্মৃতি না জানি এদের ঘিরে । কত মানুষ এদের অপেক্ষায় বসে আছে । চিন্তা করতে নুরুল ইসলামের মাথা ঘুরে যায় ।ফোন বেজে উঠে । তৃতীয় লাশ টা পাওয়া গেছে । গাইবান্ধায় ।সড়কের পাশে । কোপানো হয়েছে । পা থেকে মাথা পর্যন্ত । প্রতি ইঞ্চি । পুলিশ বরাবরের মতোই দাবি করছে ঘটনার সাথে তারা জড়িত নয় । নুরুল ইসলাম আরেকটু নিশিন্ত বোধ করে । আর ২৭ জন । ২৭ টা পরিবার । ২৭ জন মানুষ…

(২৫ শে অক্টোবর এর পর থেকে শুরু হওয়া আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে মারা গেছে বিএনপির শতাধিক নেতাকর্মী । কিন্তু নিখোঁজ হয়েছে কইয়েক গুণ । নিখোঁজ ব্যাক্তিদের ক্ষেত্রে গল্প টা একই । পুলিশের পরিচয় দিয়ে তুমে নিয়ে যায় ।তাদের খোঁজ আর পাওয়া যায় না । এই নিখোঁজ লোকদের খোজে বিরোধী দল বিএনপির পক্ষ থেকে একটা ছোট প্রচেষ্টা নেওয়া হয়েছিলো । নুরুল ইসলাম (ছদ্ম নাম) সেই প্রচেষ্টার ই অংশ । ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতা শেয়ার করার সময় সে জানায় সে চাকরিটা ছেড়ে দেবার কথা ভাবছে । সে ছেড়ে দেবার সিদ্ধান্ত ও নিয়েছে । যে দিন নিখোঁজ হওয়া কোন পরিবারের সদস্যদের তাদের সন্তান বেচে থাকার খবর দিতে পারবে সেদিনই সে চাকরি টা ছেড়ে দিবে ।কিন্তু সে সুযোগ নুরুল ইসলাম পাচ্ছে না । তালিকা টা বড় হচ্ছে । নিখোঁজ হওয়া মানুষদের তালিকা….)

 

আমার মতে “বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক দাংগা কখনো সম্ভব না” আই রিপিট দাংগা কখনো সম্ভব না । বাংলাদেশে যেটা হয় সেটা হলো এক তরফা নিধন । অর্থাৎ এক পক্ষ মারে আরেক পক্ষ মার খায় । হিট ব্যাক করে না । এই মারামারিতে অংশগ্রহণের পিছনে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ কাজ করে না ।কাজ করে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রাপ্তি যোগ ।

হিসাব টা সহজ ভাষায় বলি । ৫ তারিখ সকাল থেকেই হামলার সম্মুখীন “বাংলাদেশী হিন্দু”রা আওয়ামই লীগ নেতা কর্মীদের ফোন দেওয়া শুরু করে । প্রশাসন কেও তাদের নিরাপত্তাহীনতার বিষয় টা জানো হয়। তাদের নিরাপত্তার জন্য ব্যবস্থা নেবার অনুরোধ করা হয় । কিন্তু তাদে্র নিরাপত্তার জন্য কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। রাত্র্যন ঠিকই তাদের বাড়ি ঘরে হামলা হয় ।সাম্প্রতিক সময়ে হয়ে যাওয়া বেশীর ভাগ হামলায় এধরণের চিত্র দেখা যায় ।

আসুন দেখি এধরণের হামলার আর্থিক যোগ কি? আমার  অভিজ্ঞতা থেকে জানি বাংলাদেশী হিন্দু দের উপর স্থানীয় পর্যায়ে হামলার ক্ষেত্রে সব দলের একটা অলিখিত সমঝোতা থাকে ।একদল হামলা করে আরেক দল নিরব থেকে প্রটেকশনের ব্যবস্থা করে । হামলা শেষ হবার পর শক্ত ভাষায় নিন্দা জানায় । পুলিশ দৌড়াদৌড়ি করে । তারপর সব চুপ ।কিছুদিন বিরতি দিয়ে আবার হামলা হয় । নিরাপত্তা হীনতায় ভুগা “বাংলাদেশী হিন্দু” রা পাশের দেশে চলে যাবার কথা ভাবে । কিন্তু যাবার আগে টাকা পয়সা দরকার । কি করা যায় ? জমি , ভিটা-বাড়ি , গহনা সব পানির দামে বিক্রি করে দিয়ে যায় যাবার আগে । আর এর ভাগ পায় সব রাজনৈতিক পরিচয়ের লোক জন । এখন যদি শেখ হাসিনা -খালেদা জিয়া ফোন করেও নেতা কর্মীদের দাংগা-হাংগামা থামাতে বলেন লাভ হবে না । ৫ লাখ টাকার জমি যদি আমি ৫০ হাজার এ পাই তাইলে থামবো কেন ? এই জন্য হামলা কিছুদিনের জন্য থেমে গেলেও আবার চলে । রেগুলার বিরতিতে । “বাংলাদেশী হিন্দুদের” উপাসনালয়ে আগুন দেওয়া হয় । মূর্তি ভাঙ্গা হয় ।স্থানীয় লীগের নেতা রা চুপ থাকে । এর প্রমাণ আপনি ভুড়িভুড়ি আছে ।গতবছর সাবেক সরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী টুকু “বাংলাদেশের হিন্দু”দের উপর হামলার ঘটনা পরিদর্শন করতে পাবনার সাথিয়াতে যান ।পরিদর্শন শেষে খোদ মানবাধিকার কমিশন থেকে অভিযোগ উঠে এই হামলার সাথে পরিদর্শনের সময় টুকুর সাথে থাকা লোকজনও জড়িত ছিলো!আবার ময়মনসিংহের ভুয়াপুরে একটা হিন্দু অধ্যুষিত গ্রামের সহস্রাধিক হিন্দু এইবার ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকেন । কারণ যে লীগ নেতা তাদের মন্দির ভাংগার সাথে জড়িত ছিলো সে নিজেও আওয়ামীলীগের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেয় । তার বিরুদ্ধে প্রশাসন এবং আওয়ামী লীগ কেউ কোন ব্যবস্থা নেয় নি । আমি বিএনপি সাপোর্টার হলেও স্বীকার করতে বাধা নাই এই কার্যক্রমে বিএনপি পরিচয় দানকারী কিছু লোকের অংশ গ্রহণ ও থাকে । আসলে  যেটা বলছিলাম । এবিষয়ে একটা অলিখিত ঐক্য থাকে । এ ধরণের ঐক্য যতো টা না রাজনৈতিক বা ধর্মীয় তার থেকে অনেক বেশী অর্থনৈতিক প্রাপ্তি যোগের
আর একটা প্যাটার্ণ হল রাজনৈতিক হামলা । বিএনপি জাতীয়তাবাদী রাজনীতি করে । কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক ভাবে বাংলাদেশী হিন্দু দের একটা বড় অংশ আওয়ামী লীগ কেই সাপোর্ট করে । তারা বিভিন্ন কার্যক্রমে সক্রিয় ভাবে অংশ নেয় । ফলাফল স্বরূপ তাদের বাড়ি ঘরে হামলা ঘটে । যেটা পুরাপুরি রাজনৈতক বেপার । গত তিন মাসে বহু বিএনপি-আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীদের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটছে । বাড়ি ঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে । এবিষয় গুলো কে পলিটিক্যাল ভায়োলেন্স হিসেবে দেখা উচিত । সাম্প্রদায়িকতা না । বিএনপির অনেক বড় একটা রাজনৈতিক ব্যার্থতা হল তারা বাংলাদেশী হিন্দুদের একটা বড় অংশের আস্থা অর্জন করতে পারে নাই । কেন পারে নাই বা এতে বিএনপির কত টুকু দোষ সেটা নিয়া আলোচনা হতে পারে ।

এছাড়া পলিটিক্যাল স্যাবোটাজ করার জন্য অনেক সময় হামলার ঘটনা ঘটে ।একদল হামলা করে আরেকদলের উপর দোষ চাপায় । ওই কাজেও ও সব দলের স্থানীয় পর্যায়ের অংশগ্রহণ থাকে । সবদলের স্থানীয় পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ ভাবে অংশ নেয় ।

যশোরের মনিরামপুরের ঘটনায় “বাংলাদেশী হিন্দু’ দের আশ্রয় দিয়েছিলো পাশের গ্রামের “বাংলাদেশী মুসলমান” রাই । বাচ্চা ছেলে গুলা যখন পানির মাঝে জীবন বাচানোর জন্য লাফ দিচ্ছিলো তখন এই “বাংলাদেশী মুসলমানরা”ই নৌকা নিয়া এগিয়ে এসেছিলো । এটা মুসলমানদের মহত্ব না বরং মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি । বিপদে আরেকটা বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর যে নৈতিক দায়িত্ববোধ সেটাই পালন করা হয়েছে ।এটা দিয়ে একজন মুসলমান হিসেবে নিজের মহত্ত্ব প্রকাশের পক্ষপাতি আমি না । তবে এই বিষয় গুলো যে জিনিসটা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় এই ধরণের হামলায় মুসলিম সম্প্রদায়ের স্বতস্ফুর্ত অংশগ্রহণ নেই । বাংলাদেশের মুসলমানরা প্রকৃতিগত ভাবেই বাড়াবড়ি পছন্দ করে না ।এটাও তাদের মহত্ত্ব না ।এটা তাদের প্রকৃতি ।

তবে আমার অভিযোগ আছে “বাংলাদেশী হিন্দু” কমিউনিটির নেতাদের বিরুদ্ধে । কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমার মনে হয়েছে হামলা গুলো হয়ে যাবার পর সেই ঘটনাকে পুঁজি করে চিৎকার চেঁচামেচি এবং রাজনৈতিক ফায়দা আদায়ে কিছু কিছু কমিউনিটি লিডার যতোটা সক্রিয় কিন্তু হামলা রোধে আগাম ব্যবস্থা নেবার ব্যাপারে তারা ততোটাই নিস্ক্রিয় ।যেখানে ভারত নির্বাচনের পর সীমান্ত সিল করে দেবার ঘোষণা দেয় তাদের পক্ষ থেকে আশংকা প্রকাশ করা হয় হামলার স্বীকার হওয়া হিন্দু রা দলে দলে সীমান্তের দিকে চলে আসতে পারে সেখানে কমিউনিটি লিডার রা সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে প্রশাসনকে সতর্ক করার দায়িত্ব কতো টুকু পালন করেছে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলাই যায় । যশোরের জেলাপ্রশাসক ভদ্রলোক নিজেও সনাতন ধর্মের অনুসারী! তিনি নিজে কি করে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে নিজ ধর্মালম্বীদের হুমকির মুখে ঠেলে দিলেন সেটাই অবাক করার মতো! হামলার ঘটনা গুলো বেশীর ভাগই ঘটে নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষদের উপর । হিন্দু কমিউনিটির উচু তলার লোকজন এ ধরণের ঘটনার সম্মুখীন খুব বেশী হন না বা হলেও ক্ষতি কাটিয়ে নেয়া তাদের জন্য কোন কঠিন বিষয় না । এজন্যই কি তারা এমন উদাসীনতা দেখান ? এই হিন্দু কমিউনিটির সংস্থা গুলোতে “বাংলাদেশী হিন্দু” কমিউনিটির সব পর্যায় এবং সব শ্রেণী থেকে অংশ গ্রহণ আছে কি না আমার জানা নেই । আমার কেন জানি মনে হয় “বাংলাদেশী হিন্দু” সম্প্রদায় ও আমাদের সমাজের সেই পরিচিত কাঠামোর বাইরে না ।যেখানে উঁচু এবং অপেক্ষাকৃত বেশী সুযোগ সুবিধা লাভকারী রা অন্য দের খোঁজ নেয় না । এবিষয়ে আমার যথেষ্ট জ্ঞাণ না থাকায় বিস্তারিত মন্তব্য করছি না ।

কারণ যেটাই হোক হামলা হচ্ছে ।এবং হামলার প্রতিক্রিয়া গুলোও রেগুলার চেইন রিয়াকশনের মতো ঘুরে ঘুরে আসছে ।কেউ প্রতিবাদ জানাচ্ছেন , কেউ সরকার কে আবার কেউ বিরোধী দল কে দায়ী করছেন । বিদেশীরা উদ্বেগ জানাচ্ছে । সরকার থেকে এই বিষয় গুলো প্রচার করে বলা হচ্ছে দেখো বিএনপি কত খারাপ । আবার বিএনপি নানা ভাবে বুঝাতে চাচ্ছে এর পিছনে সরকার দায়ী ।রেগুলার চেইন চলছে ।  এই রেগুলার চেইন থেকে মুক্তির উপায় টা আমার জানা নেই । । যারা  রাষ্ট্র ও সমাজ ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করে তারা যদি কোন অনিয়মে যুক্ত হয় সেটা কে থামানো কমন পিপলের জন্য খুব কঠিন কাজ । আর সেই অনিয়ম থেকে যদি আর্থিক কিংবা রাজনৈতিক ফায়দা নেবার সুযোগ থাকে তখলে তো কথাই নেই ।তার প্রতিকার কখনোই পাওয়া যাবে না। প্রমাণ স্বরূপ বলতে পারি এখন পর্যন্ত কোন রামু , পাবনার সাথিয়া দুইটার একটাই ক্ষেত্রেও দোষীদের বিচার হয়েছে  বলে আমার জানা নেই । অথচ দুইটা ঘটনা থেকেই রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করার চেষ্টা করা হয়েছে । দুই জায়গাতেই আর্থিক লাভ-ক্ষতির হিসাব ছিলো ।দুই জায়গাতেই সবদলের স্থানীয় পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের অংশগ্রহণ ছিলো! প্রথমবারই নিরেপেক্ষ তদন্ত হলে দিতীয়বার একই ঘটনা ঘটতো না । রেগুলার চেইন থেমে গেতো । সো আসলেই কমন পিপলের করার কিছু নেই ।

(একজন মুসলমান হিসেবে নয় বরং একজন অক্ষম বাংলাদেশী হিসেবে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশী ভাইদের কাছে আমার শুধু ক্ষমা চাইবার ক্ষমতা আছে  ।আমাকে ক্ষমা করবেন )

সময়টা খুব সম্ভবত ফেব্রুয়ারী কিংবা মার্চ । সাঈদীর রায়ের পর সাঈদী সাহবের ওয়াইফ তার ছেলে পেলে নিয়ে দেখা করতে গেছিলেন জেল খানায় । তো জেলখানায় যখন সাঈদী কে জানানো হয়েছিলো তার ছবি চাদে দেখা গেছে এবং সেই ছবি দেখে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসছে সবচেয়ে বড় কথা সেই ছবি দেখে উত্তেজিত হয়ে তার ফাসির রায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে মানুষ মারাও গেছে তখন উনার চেহারায় একটা হত-বিহব্বল ভাব দেখা গিয়েছিলো । উনি নাকি বেশ কিছুক্ষণ কথাও বলতে পারেন নাই ( বিডি নিউজ-২৪ এ রিপোর্ট টা আসছিলো ) এখনো মনে আছে রিপোর্ট টা দেখে আমি আমার আরেক ফ্রেন্ডের সাথে আলোচনা করতে ছিলাম ওই সময় সাঈদীর মনে কি চলতেছিলো । উনি নিশ্চয়ই অবাক হয়ে ভাবতেছিলেন- “আমি করতে বলে আসলাম কি আর আহাম্মকের বাচ্চা গুলা করতেছে কি!চাদে আমার ছবি ফালাইতে কে কইছে!এমনে করলে তো জিন্দেগিতে আমারে জেল থিকা বাইর করতে পারবে না ” উনি তখন সেই সময় যা অনুভব করছিলেন তা হল কিছু যোগ্য আর বুদ্ধিমান লোক জনের অভাব যারা এই বিষয় গুলো কে ঠিক ভাবে পরিচালনা করতে পারবে । পরে অনেক টাকা পয়সা খরচ করে জামাতের পক্ষ থেকে বিদেশী লবিষ্ট নিয়োগ করা হয় যারা সরকারের করা “বিচার প্রক্রিয়ার” ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত ভুল গুলো কে ফোকাস করে এই পুরো প্রক্রিয়াকে বিতর্কিত প্রমাণ করতে সক্ষম হয় ।এখানে জামাতের আন্তর্জাতিক লিঙ্ক আপ কোনো খেলা দেখায় নাই খেলা দেখাইছে টেকা এবং সরকারের কিছু ভুল সিদ্ধান্ত ।

শেখ হাসিনা অত্যন্ত বিচক্ষণ এবং চালাক একজন রাজনীতিবীদ ।এটা অস্বীকার করার কোন উপায় নাই । শাহবাগ আন্দোলন যখন শুরুর এক সপ্তাহ রমরমা অবস্থা তখন তিনি কয়েকবার বলার চেষ্টা করেছিলেন আন্দোলন টার সমাপ্তি টানা উচিত । কোন একটা পত্রিকায় (খুব সম্ভবত কালের কন্ঠ) এ বিষয়ে পড়েওছিলাম । তখন খুব সম্ভবত আওয়ামীলীগের প্রচার সম্পাদক লেনিন এবং মতিয়া চৌধুরী এর বিরোধিতা করেছিলেন । কিন্তু শেখ হাসিনা তার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থেকে বুঝতে পেরেছিলেন এটা তাদের জন্য বুমেরাং হতে যাচ্ছে ।এবং শেষ পর্যন্ত হইয়েছেও তাই । যখন গণজাগরণ মঞ্চ থেকে সকল প্রকার ধর্মীয় রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবি আসলো শেখ হাসিনার আশংকাই সত্য প্রমাণিত হয়েছিলো । এই অববেচনা প্রসূত ঘোষণা তার জন্য মাঠে নতুন শত্রু নিয়ে আসলো (হেফাজত এ ইসলাম ) যারা জামাতবিরোধী অবস্থানগত কারণে একসময় তারই মিত্র ছিলো । এই নতুন শত্রু কে মোকাবেলা করতে গিয়ে তিনি বন্ধু হারিয়েছেন , জনপ্রিয়তা হারিয়েছেন , ঘরে-বাইরে একা হয়ে গেছেন । যার জন্য তাকে চরম মূল্য দিতে হয়েছে । অনলাইনে এই সম্ভাব্য বিপর্জয় আওয়ামী লীগ সমর্থকদের মাঝে ডাক্তার আইজু ই আন্দাজ করতে পেরেছিলো । যার ফলে পুরো স্রোতের বিরুদ্ধে গিয়ে তাকে একা গণজাগরণ মঞ্চের বিরুদ্ধে দাড়াতে হয়েছিলো । এবং তার অনুমান সত্য হয়েছিলো । আওয়ামীলীগ সরকার যদি কোনদিন কোন অনলাইন এক্টিভিষ্ট কে মূল্যায়ন করে তবে ডাক্তার আইজূ কে করা উচিত । এই ভদ্র লোক যতোই মিথ্যা আর বিভ্রান্তিকর খবর ছড়াক পরিস্থিতি বুঝে সিচুয়েশন টুইস্ট করতে তার জুড়ি নাই । কিন্তু শুধু মাত্র এই অপরাধে গণজাগরণ মঞ্চের ফেসবুক পেইজ থেকে তার ব্যক্তিগত ছবি , ফোন নাম্বার পাবলিকলি ছেড়ে দেওয়া হয় যার ফলে ভদ্র লোক নিজের প্রফাইল ডিএক্টিভেট করতে বাধ্য হোন । তার নিজের অস্র তার নিজের বিরুদ্ধেই ব্যবহার করা হয় । শাহবাগে গিয়ে অপমান হয়েছেন আওয়ামী লীগের বর্ষিয়ান নেতা তোফায়েল আহমেদ , হানিফ , সাজেদা চৌধুরী । অথচ একই মঞ্চে ভাষণ দিয়েছেন মতিয়া চৌধুরী , লেনিন এবং মুহিত । পরের তিনজনের ই একটু ভিন্ন ধরণের রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ডের কথা আমরা জানি । অনলাইন কিংবা অফলাইন সব জায়গাতেই কট্টর আওয়ামী পন্থীরা হেনস্তার স্বীকার হয়েছেন । কালকে যখন সরকারী লোকজন হঠাৎ করে ফাসি দেবার জন্য সব বন্দোবস্ত করে ফেলে এবং কিছুক্ষণ প্রেই আবার ফাসি স্থগিত করা হয় আর এটর্নি জেনারেল সাহেব জানান তাকে না জানিয়েই সব করা হয়েছে তখন নিশ্চয়ই শেখ হাসিনা খুব বিরক্তবোধ করছিলেন । আর মনে মনে ভাবছিলেন-“অপদার্থের দল ।একটা ফাসি দিবে সেটাও ঠিক মতো করতে পারে না ।” এর আগে যতবারই আওয়ামীলীগ বড় রকমের গ্যাঁড়াকলে পরেছে শেখ হাসিনা অদ্ভুত কৌশলে তাদের সেই গ্যাঁড়াকল থেকে বের করে এনেছেন । মাঝে মাঝে মনে হয় তার আশে পাশে সেই পরীক্ষিত নেতারা থাকলে বোধহয় আওয়ামী এক দুর্দমনীয় শক্তি তে পরিণত হতো । ইদানিং সেই পুরাতন নেতাদের মূল্যায়ন করার চেষ্টা চলছে । এই গ্যাঁড়াকল শেখ হাসিনা কিভাবে হ্যান্ডেল করেন সেটা দেখার বিষয় । একই ভাবে যখন শিবির নেতা কর্মীরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তাদের নেতাদের বাচাতে গিয়ে মারা পরছিল , যখন জনমত দৃশ্যত ছিলো গণজাগরণ মঞ্চের পক্ষে তখন সব স্রোতের বিপরীতে গিয়ে খালেদা জিয়া এর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন । প্রথম প্রথম অনেক বিএনপি সমর্থক ও এর সমলোচনা করলেও পরে তার সিদ্ধান্তই সঠিক বলে প্রমাণিত হয় । জামাত যে কারণে কখনোই আওয়ামীলীগ-বিএনপির মতো হতে পারবে না তার মূল কারণ হল শেখ হাসিনা বা খালেদা যে থিঙ্কট্যাঙ্ক আছে জামাত কিংবা বামদের কাছে তার সিকি ভাগও নেই । আর শেখ হাসিনা এবং খালেদা জিয়া দুইজনই দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের মাঝ দিয়ে, উত্থান পতনের মাঝ দিয়ে আজকের অবস্থানে পৌঁছেছেন। সিচুয়েশন এনালাইসিস এবং সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবার যে অবিশ্বাস্য ক্ষমতা এই দুই দলের নেত্রী এবং তাদের থিঙ্ক ট্যাংকের রয়েছে তা বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিরল । এরা দুজন তাদের দলের ভিত্তি এতো গভীর করে গেঁথে দিয়ে যাচ্ছন আপনি আমি না চাইলেও আগামী ৪০-৫০ বছর এই দুই দলই দেশ চালাবে ।এটা বাস্তবতা । অপ্রিয় হলেও বাস্তব ।

সাঈদীর ছবি চাদে “দেখা” যাবার গুজবের পর যে রিয়াআকশন হইছিল সাবেক সাংসদ MD Golam Maula Rony MP এর কাদের মোল্লা কে নিয়ে লেখা চিঠি প্রকাশিত হবার পর তার কয়েকশো গুণ প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে । এ পর্যন্ত ২০+ লোক আমাকে ইনবক্সে নক দিছে যার মাঝে উল্লেখ যোগ্য সংখ্যক মেয়ে এবং একটা বড় অংশ শাহবাগে গেছিলো । তাদের একটাই প্রশ্ন যদি এই কাদের সেই কাদের না হয় তাহলে কি হবে ?যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিপক্ষে মেয়েরা সবচাইতে সোচ্চার আমি সেই মেয়েদের ও কনফিউসড হয়ে যাইতে দেখছি । যদি এই চিঠি বানানোই হয় তবে স্বীকার করতেই হবে জামাত ইজ গেটিং স্মার্টার । সাঈদী কিংবা গোলাম আযম না কনফিউশন টা তৈরী করা হইছে তুলনামূলক ভাবে দেশের মানুষের কাছে অপরিচিত কাদের মোল্লা কে নিয়া ।যার ফলে মানুষ আরো সহজে কনফিউসড হয়ে যাচ্ছে । ইতিমধ্যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মিডিয়া এবং আন্তরর্জাতিক সংস্থা এবং গণমানুষের একটা বড় অংশের মনে এটা মোটামুটি প্রতিষ্ঠিত করা হয়ে গেছে যে এই ট্রাইবুনাল বিতর্কিত । এর ফলাফল ভয়ংকর । আওয়ামীলীগ যে কি সর্বনাশ টা করে দিয়া গেলো সেটা তারা দশ বছর পরে বুঝবে । জামাত কে এখন আম জনতার একটা বড় অংশ দেখবে পরিস্থিতির স্বীকার , নির্যাতিত সংগঠন হিসাবে । তাদের মৌলবাদী এবং যুদ্ধাপরাধী পরিচয় টা আড়ালে চলে যাবে । জামাত অকল্পনীয় শক্তিশালী হয়ে যাবে । ১০ বছর টাইম লাইন ধরা হইছে যদি চিঠিটা বানানো হয় । আর যদি চিঠির ঘটনা সত্য হয়? দুই বছর পর কেউ প্রমাণ করতে পারে এই কাদের সেই কাদের না? আল্লাহ মাফ করুক তখন কি সিচুয়েশন হবে কল্পনাও করতে চাই না ।এই ট্রাইবুনাল থেকে এখন দোষী ব্যাক্তিকেও ফাসি দিলে সে শহিদী মর্যাদা পাবে ।

প্রশ্ন উঠতে পারে তাহলে আওয়ামীলীগ এই পর্যায়ে এই রায় কেন কার্যকর করতেছে । সত্যিকার অর্থে এটা পলিটিক্যাল পয়েন্ট অফ ভিউ থেকে আওয়ামীলীগের জন্য খুব ক্যালকুলেটেড মুভ – খুব সম্ভবত আওয়ামীলিগ তিনটা সিচুয়েশন মাথায় রাখছে-

* শেখ হাসিনা কে পদত্যাগ করতেই হবে এবং ক্ষমতা রাষ্ট্রপতি বা কারো কাছে হ্যান্ড অভার করতে হবে । এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ এর জন্য এটা বিশাল প্লাস পয়েন্ট । এই দাবি মেনে নইলে বিএনপি চুপ হয়ে যাবে জামাত মাঠে থাকবে । ফলাফল পুরা আন্দোলন কে যুদ্ধ অপরাধী বাচানোর আন্দোলন হিসেবে ব্রান্ডিং করা যাবে ।গণ্ডগোলের সুযোগে জরুরী অবস্থা দিয়ে ক্ষমতা পাকাপোক্ত করা যাবে

*শেখ হাসিনা পদত্যাগ করবে না । বিএনপি সহ ১৮ দলকে নিশ্চুপ করে দেওয়া হবে । এক্ষেত্রেও এটা খুব ভালো মুভ । জামাতের সহিংসতার দায়ে বিএনপি এবং ১৮ দলের সব তৃণমূল আর কেন্দ্রীয় নেতা কে গ্রেফতার করা যাবে । এক্ষেত্রে পাব্লিক সাপোর্টও পাওয়া যাবে । আন্তর্জাতিক মিডিয়ার কাছেও জিনিস্টাকে জংগী দমন হিসেবে প্রেজেন্ট করা যাবে ।

*কোন ভাবে বিএনপি ক্ষমতায় আসলো । তখন অন্য মামলা গুলার রায় কার্যকর করা কে ইস্যূ করে আন্দোলন করা যাবে এবং সরকার পতনের মতো পরিস্থিতি তৈরী করা যাবে ।

এই সব গুলা হিসাব ওলট-পালট করে দেওয়া সম্ভব হইত যদি জামাত-শিবির ধৈর্যের পরিচয় দিতো । কিন্তু তারা অত্যন্ত উৎসাহের সাথে ভাংচুরে লাইগা গেছে । জামাত যদি মিনিমাম পলিটিক্স ও বুঝে তাদের উচিত পাব্লিকের মনে যে ধারণা টা জন্মাইছে সেটা কেমনে আরো স্থায়ী করা যায় সেটা নিয়া ভাবা (অলরেডি সেই কাজ তারা শুরু করে দিছে) আর আওয়ামীলীগ যদি আসলেই চায় জামাত নিশ্চিহ্ন হোক তাদের উচিত ভুল-ঠিক যা পারা যায় কিছু জিনিসপত্র বানাইয়া পাব্লিকের কাছে স্পেশালি গ্রামের পাব্লিকের কাছে প্রচার করা । কারণ উনাদের কাছে ইন্টারনেট নাই । অমি পিয়ালের চিঠি পড়াইয়া উনাগো ভুল-ভাল বুঝানোর সুযোগ নাই । আর বিএনপির উচিত আন্দোলনে ফেরত যাওয়া । এই রায়ে লাভ হইতেছে জামাত আর আওয়ামীলীগের । আমাদের কোন লাভ নাই । আমাদের উচিত আন্দোলনে পুরা ফোকাস দেওয়া ।

(এই কাদের মোল্লা কি কসাই কাদের নাকি তা নিয়া আমার কিচ্ছু যায় আসে না । গত দুই সপ্তাহে বিএনপির এক সাবেক এম্পি সহ ৫০ জন গুম হইছে । তারা কোন বিচার পায় নাই । তাদের খবর মিডিয়াতেও আসে নাই ।কাদের মিয়া দোষী হোক আর নির্দোষ হোক সে একটা বিচার পাইছে । তার মরণের মাঝে দিয়া জামাত রে এস্টাব্লিশ করে দিয়ে যাচ্ছে । তার কথা সবাই মনে রাখবে । কিন্তু বিএনপির এই কর্মীদের কথা কেউ মনে রাখবে না । বিএনপি ও না )

পাপ বাপরেও ছাড়ে না । কাদের মোল্লার দোষী হিসেবে বিচারে শাস্তি পাওনা ছিলো । “বিচার” টা “বিচারের” মতোই করা উচিত ছিলো ।আমরা যদি প্রতিশোধ নিতে চাইতাম তাহলে চোখ বন্ধ করে সব কয়জন কে ব্রাশ ফায়ার করে মেরে ফেলতে পারতাম । বাংলাদেশের কেউ কোন প্রতিবাদ করতো না । কোথাও কোন মিছিল হইতো না । কিন্তু আমরা বিচার করতে গেছি । যেখানে আসামীর আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার আছে । সেখানে এই বিচারের ইস্যুটাকে রাজনৈতিক ভাবে ব্যবহার করে আওয়ামীলীগ জামাত শিবিরকে এই দেশের রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত করে দিলো । দেশের অনেক মানুষ এখন জামাত-শিবির কে ভিকটিম ভাবতে শুরু করছে । আগে জামাত-শিবিরের লোক গুলা মুক্তিযুদ্ধের সময় তাদের দলের অবস্থান নিয়ে কথা বলতে গিয়ে হিন-মন্নতায় ভুগতো ।এখন তারা নিজেদের অত্যাচারিত হিসেবে পরিচয় দিবে । পুরা বিচার প্রক্রিয়া কে বিতর্কিত করার কারণে এবং আসল সত্য টা প্রতিষ্ঠিত করতে না পারার কারণে এখন গ্রাম বাংলায় অনেক মানুষ অনেক প্রতিষ্ঠিত বিষয় নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা শুরু করছে । জামাত কে রাজনৈতিক ভাবে প্রতিষ্ঠিত করার এই দায় আওয়ামীলীগ কখনোই এড়াতে পারবে না । শুধু মাত্র বিচার প্রক্রিয়াটা কে রাজনৈতিক করণ জামাতের এই উপকার টা করে দিলো । প্রথম আলো কিংবা ডেইলিস্টার এর জরিপ যতোই দেখাক গত পাঁচ বছরে বিশেষ করে গণজাগরণ মঞ্চের উদ্ভবের পর জামাত অভাবনীয় রকম শক্তি লাভ করেছে । প্রতিশোধ আর বিচার দুইটা আলাদা জিনিস । প্রতিশোধ নেবার সময় যে কোন পন্থা অবলম্বন করা যায় । সেটা নিয়ে কোন প্রশ্ন উঠে না । কিন্তু বিচার প্রক্রিয়া পুরা আলাদা জিনিস । এখানে একটু ভুল-ক্রুটি আসামী দোষী এবং দন্ডিত হবার পর ও তাকে মানুষের চোখে ইতিহাস , প্রেরণা বানাতে পারে ।এখানে সেটাই ঘটতে আচ্ছে

আওয়ামীলীগ যদি সত্যি চাইতো জামাত কে নিশ্চিহ্ন করতে হবে তাহলে তারা বিএনপি এর উপর এই ভাবে দমন-পীড়ন চালাতো না । এই দমন পীড়নের ফলে নিজেকে প্রমাণ করার জন্য বিএনপিকে “স্কিল পলিটিক্স” থেকে “পাওয়ার পলিটিক্স” এ নামতে হয়েছে । আর সে ক্ষেত্রে জামাতকে কৌশলগত জোট সঙ্গী হিসেবে নেওয়ার সিদ্ধান্ত আরো যুক্তিযুক্ত প্রমাণিত হয়েছে ।জামাত কে নিশ্চিহ্ন করার উপযুক্ত কৌশল ছিলো বিএনপিকে শক্তিশালী হতে সাহায্য করা ।স্কিল পলিটিক্সের পরিবেশ বজায় রাখা

আর জামাত-শিবিরের লোক জন কে যতো টুকু চিনে এরা প্রত্যাঘাত করবে । আজ না হলেও এক বছর পর । কিংবা ৫ বছর পর । আমরা জামাত-শিবিরকে রাজনৈতিক দল ভেবে ভুল করি । জামাত শিবির যতো টা রাজনৈতিক দল তার থেকে বেশী একটা “কাল্ট” বা ভ্রাতৃ সংঘ । রাজনৈতিক লোক জন আপোস করে , অতীত ভুলে সামনে আগানোর চেষ্টা করে কিন্তু এরা আঘাত পেলে পাল্টা আঘাত করে , প্রতিশোধ নেয়

শুধু একটা বিতর্কিত বিচার ব্যবস্থা , সুখ রঞ্জন বালীর অপহরণ , রায় ফাঁস এই ছোট ছোট কিছু বিষয় এতো সুন্দর একটা উদ্যোগ কে বিতর্কিত করে দিলো । নষ্ট করে দিলো । আর যখন বিএনপি সহ ১৮ দল একটা ভিন্ন ইস্যুকে নিয়ে আন্দোলনে ব্যাস্ত তখন এই রায় বাস্তবায়ন করে যে বিএনপির আন্দোলন কে রাজাকার বাচানোর আন্দোলনে ব্রান্ডিং করার চেষ্টা করা হবে সেইটা বুঝার মতো ক্ষমতা দেশের মানুষের আছে

আওয়ামীলীগ সঠিক কাজ টাই করেছিলো কিন্তু এই সঠিক কাজ টা সঠিক নিয়মে এবং সঠিক উদ্দেশ্যে করার মত সৎ ইচ্ছা বা আগ্রহ কোনটাই তাদের ছিলো না ।

নো

Posted: December 7, 2013 in রিভিউ

সময়টা ১৯৮৮ , আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপের মুখে চিলির স্বৈরশাসক পিনোশেট একটি গণভোট আয়োজন করতে রাজি হন । গণভোটের স্বচ্ছতা এবং মিডিয়ার নিরেপেক্ষ অবস্থান প্রমাণ করার জন্য পুরো সম্প্রচার সময় থেকে ১৫ মিনিট পিনোষেটের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালানোর জন্য বরাদ্দ করা হয় । আর

পিনোশেটের হাতে পুরো রাষ্ট্রযন্ত্র । গণতন্ত্রকামী রা প্রচারণা চালানোর জন্য মার্কেটিং এক্সপার্ট রেনে সাভেড্রা এর সাহায্য প্রার্থনা করে । অন্য দিনে রেনে সেভেড্রার বস লুচো যোগ দেয় সরকার পক্ষের প্রচারণায় । একদিকে বিরোধী দলের সরকার বিরোধী আন্দোলনের সহিংসতা কে ফলাও করে প্রচার করা হয় । অন্য দিকে নো ক্যাম্পিং এর সাথে জড়িত সবাই শিকার হয় রাষ্ট্র যন্ত্রের হয়রানির । নির্বাচন কে পাতানো মেনে নিয়েই শুধু মাত্র নিজেদের কন্ঠ স্বর।মানুষের কাছে পৌছে দেবার জন্য এক অসম যুদ্ধে অবতীর্ণ হয় বিরোধী দল । শেষ পর্যন্ত কি ঘটে নো ক্যাম্পের সদস্যদের ভাগ্যে? তাদের প্রচারণার ফলাফলই বা কেমন ছিলো? জানতে হলে আপনাকে এই মুভি দেখতে হবে । শুধু এতো টুকু বলতে পারি আপনাকে শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত পর্দার সামনে আটকে রাখবে এর কাহিনী ।

অসাধারণ অভিনয় , অসাধারণ ক্যামেরার কাজ অসাধারণ মিউজিক । চিলিয়ান মুভি ইন্ডাস্ট্রি থেকে আসলেই এতো টা আশা করি নাই
আই এম ডিবি রেটিং ৭.৪
আমার রেটিং ৮.৪

images(2)

বিয়া বাড়ি থিকা ব্যাক করতে ছিলাম , একটু বেশী রাত হয়ে গেছিলো । দুই জায়গায় পুলিশ থামাইছে । এক জায়গায় পুলিশ বিয়া বাড়ির খাবারের মেনু ও জিজ্ঞাস করছে । আমার মোবাইল চেক করছে ।মানিব্যাগে আম্মার ছবি দেইখা সন্তোষ প্রকাশ করছে । সবসময় মা-বাবা কে উপযুক্ত সম্মান দিতে বলছে

আমার রিক্সা থামানো বয়স্ক লোক টা আমার সাথে আলাপ জুড়ে দেবার চেষ্টা করে । কথা প্রসঙ্গে জানায় তার ফুপাতো ভাই এর মেজ ছেলে আমার ভার্সিটিতেই পড়াশুনা করে ।তার নিজের ছেলেকেও আমার ভার্সিটিতেই পড়ানোর ইচ্ছা । কিন্তু ছেলেটা পড়াশুনায় অমনোযোগী ।আপন মনে কথা গুলা বলে লোকটা আমার রিক্সা ছেড়ে দেয় । আমি রিক্সা নিয়ে চলে আসি । পিছনে তাদের টহল গাড়িটা ফেলে আসি । চার-পাচটা বিরক্ত প্রাণী এই রাত্রে আরো বিরক্তিকর চেহারা নিয়ে তাদের গাড়িতে বসে আছে ।এই মানুষ গুলো গত অবরোধের কর্মসূচির পর থেকে ঘর ছাড়া । রাত-দিন সব মিলিয়ে ১৮ ঘণ্টা ডিউটি করতে হয় । বিশেষ বিশেষ পয়েন্টে এদের বসার সুযোগ নাই ।দাড়াইয়া থাকতে হয় । এদের অনেকেই দুই বছর আগেও পাব্লিকের উপর গুলি চালানোর কথা চিন্তাও করতে পারতো না । পাব্লিকের উপর গুলি চালাইলে তাদের জবাবদিহি করতে হতো !এখন কোন কোন সময় গুলি না চালালে এদের জবাবদিহি করতে হয় ।একদল খুব সাধারণ মানুষ কে খুব ভয়ংকর পশু তে পরিণত করা হচ্ছে ।

এই লোক গুলা ভাবসাবে খুব অনমনীয় একটা লক্ষণ দেখাতে চাইলেও এদের কণ্ঠস্বরে মনের অজান্তেই একটা ক্লান্ত ভাব ফুটে উঠে ।এরা বাড়ি ফিরতে চায় । ১৮ ঘণ্টা রাজপথে দাড়িয়ে ডিউটি করতে করতে আর বিরোধী দলের নেতা কর্মী দেখলেই গুলি করতে করতে এরা ক্লান্ত হয়ে উঠছে । অধৈর্য হয়ে উঠছে ।

প্রিয় শেখ হাসিনা!ওরা বাড়ি ফিরতে চায় । ওরা ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছে। আপনার দলের যে কর্মীকে আপনি যুদ্ধের ময়দানে ঠেলে দিচ্ছেন , যে এই রাতের আধারে ১৮ দলের কোন কর্মীর উপরে আঘাত হানার পরিকল্পনা করছে সেও বাড়ি ফিরতে চায় । ১৮ দলের যে কর্মীটা আজ সাতক্ষীরা , বগুড়া , চট্টগ্রাম কিংবা অন্য কোন জেলায় আপনার দলের কর্মী আর পুলিশের সাথে লড়ার জন্য তৈরী হচ্ছে সেও বাড়ি ফিরতে চায় । ঢাকায় ১৮ দলের যে কর্মী সারা দেশের আন্দোলন এর ঢেউ ঢাকায় লাগাতে না পাড়ার ব্যার্থতা নিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছে সেও বাড়ি ফিরতে চায় । আপনার দলের যে কর্মী আগামীকাল ঢাকা পাহারা দেবার জন্য মোটর সাইকেল নিয়ে বের হবে সেও বাড়ি ফিরতে চায় । ১৮ দলের যে নেতা ভিডিও টেপের মাধ্যমে কর্মসূচি দিতে বাধ্য হচ্ছে সেও বাড়ি ফিরতে চায় ।

এতো গুলো মানুষ আজ ঘর ছাড়া শুধুমাত্র আপনার একার একটা জেদ কে পূরণ করার জন্য । আপনার ছোট একটা ঘোষণাই ওদের বাড়ি ফেরার পথ খুলে দিতে পারে । ওদের বাড়ি ফিরতে দিন । ওরা ক্লান্ত!

বাসে আগুন দেওয়া নিঃসন্দেহে বাজে কাজ হইতেছে । খোলা চোখে দেখলে বাসে আগুন দিয়া মানুষ মাইরা বিএনপির কোন লাভ নাই । বরং যে পাব্লিক সাপোর্ট তাদের ছিলো সেইটা নষ্ট হবার চান্স আছে । তাইলে কি লাভটা আওয়ামীলীগের হবে? খোলা চোখে এতে আওয়ামী লীগের লাভ হইলেও আসলে তাদের ও কোন লাভ হবে না । মানুষ আওয়ামী লীগের ঘাড় ত্যাড়ামির জন্য তাদের উপরে এমনেই বিরক্ত । এখন নতুন করে বিএনপিরে নিয়ে কনফিউসড হবে । জামাতের গায়ে রাজাকার আর বামদের গায়ে আছে নাস্তিক ট্যাগ । এরশাদ চাচার দলের নামই হয়ে গেছে সকাল বিকাল পার্টি । তাইলে তো পাব্লিক কাউরে নিয়াই খুশি না । কি হবে? এই অবস্থা যদি আরো এক মাস চলে তাহলে বাংলাদেশে সামরিক শাসনের জন্য একদম আদর্শ অবস্থার সৃষ্টি হবে । গতবারের ওয়ান-ইলেভেনের তুলনায় এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন । জনগোষ্ঠীর মাঝে তরুণ ভোটার বাড়ছে । যারা দুই দলের উপরেই বিরক্ত হয়ে যাচ্ছে আস্তে আস্তে ।দুই দলের ফিস্কড সাপোর্টার যে জনগোষ্ঠী ছিলো তা আরো কমতেছে । ফলে এই বার “কুচকাওয়াজ পার্টি” এসে যদি লম্বা সময়ের জন্য দেশের “খেদমত” করা ইচ্ছা প্রকাশ করে তাইলে এই জনগোষ্ঠীর মাঝে থিকা বাধা আসার সম্ভবনা খুব কম । আর এবার আসলে তারা লম্বা সময়ের জন্যই আসবে । কমপক্ষে ১০ বছরের ধাক্কা ।আম্রিকা-ইউরোপ বেশী কিছু বলবেনা । তাদের দরকার এমুন শাসক যারা পাব্লিক রে ঠান্ডা রাখতে পারবে । আর কে না জানে আর্মি এই কাজে খুব এক্সপার্ট!ডান্ডা মাইরা পাব্লিক রে ঠান্ডা রাখতে আর্মির জুড়ি নাই ! তো পাবলিকের জন্য কি এটা ভালো না খারাপ?

বাড়ির নতুন বউ রে প্রথম প্রথম সবাই ভালো লাগে । বউ পুরান হতে থাকলে বউ এর আসল চেহারা বাইর হয় । আর্মি এতো ডিসিপ্লিনড , সৎ কারণ তাদের পুরাপুরি আলাদা একটা ইকো সিস্টেম আছে । তাদের লাইফ স্টাইল , চলাফেরা সম্পূর্ণ আলাদা । কিন্তু জেনারেল পাব্লিকের ইকো সিস্টেমে আসলে এইটা চেঞ্জ হতে বাধ্য । ফলে আর্মির মাঝে দুর্ণিতী ঢুকবে । আর্মি আস্তে আস্তে সব খাইতে চাবে । আর পাব্লিক ট্যা ফ্যা করার চেষ্টা করলে ডাবল থেরাপি চলবে । একদিক দিয়া বুঝানো হবে রাজনীতিবীদ রা খারাপ (ওয়ান-ইলেভেনের টিভি বিজ্ঞাপন গুলা দেখতে পারেন চাইলে ) ,গণতন্ত্র পচা! অন্য দিক দিয়া চলবে ডান্ডা থেরাপি । পলিটিশিয়ান রা তো তাও পাব্লিক অপিনিয়ন অনুযায়ী কিছু কাজ করার চেষ্টা করে , পাব্লিক অপিনিয়ন ম্যানুপুলেট করার চেষ্টা করে । আর আর্মি কি করবে? তারা আরেক জনের অপিনিয়নের ব্যাপারে শ্রদ্ধাশীল না । তারা অর্ডার দিতে আর পেতে অভ্যস্থ । পাব্লিক অপিনিয়ন রে তারা বুলেট দিয়ে চেঞ্জ করতে চাবে । ফলাফল সরূপ অবস্থা হবে রাজনৈতিক শাসন আমলের চেয়েও খারাপ । হাসিনা আপা ঘাড় ত্যারামি করতে যাইয়া নিজের দলের তো বারোটা বাজাবেন ই , সাথে সব পলিটিশিয়ান , পাব্লিক , ব্যবসায়ী আর দেশটারে বুংগা বুংগা করে দিয়ে যাবেন । “কুচকাওয়াজ পার্টি” এর শাসন নিয়া যারা বেশী আশাবাদী তাদের অনুরোধ করবো পাকিস্তান আর মায়ানমারের দিকে তাকাইতে । সামরিক শাসন দেশ দুইটারে পুরাই বুংগা বুংগা করে দিয়ে গেছে । সো হাসিনা আপা গুলি চালানো অব্যাহত রাখেন । উনি মে বে ভাবতেছেন উনার হারানোর কিছুই নাই । শেষ জীবনে আইসা তাই এই গোয়ার্তুমি করতেছেন ।কথা অনেকাংশে সত্য । আসলেই উনার হারানোর কিছু না । কিন্তু কিছু পাবার সম্ভবনাও খুব কম!

অফ টপিক-
সজীব ওয়াজেদ জয় ভাই কি আবার আমেরিকা থিকা ব্যাক করছে? জানেন কেউ?

অতি সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহ গুলোতে ভারতীয় চলচিত্র প্রদর্শনের একটা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে । প্রায় সবাই মুভি ইন্ডাষ্ট্রি তে ভারতীয় মুভির সম্ভাব্য আগ্রাসন নিয়ে চিন্তিত । অবশ্যই এই আগ্রাসন নিয়ে উদ্ভিগ্ন হবার যথেষ্ট কারণ আছে । তবে এই ফাক তালে একটা জিনিস আমাদের চোখ এড়িয়ে যাচ্ছে ।টিভি বিজ্ঞাপন এবং নাটক কে কেন্দ্র করে আমাদের এখানে যে শিল্প টা গড়ে উঠার চেষ্টা করছে তাও কিন্তু এক প্রকার হুমকির সম্মুখীন! আমি আমার পোষ্ট অপেক্ষাকৃত কম আলোচিত টিভি চ্যানেলের আগ্রাসন এবং তার সম্ভাব্য সাইড এফেক্ট এর ব্য্যাপারে আলোচনা দিয়ে শুরু করবো ।

বুঝিয়ে বলি । আপনি আপনার পণ্যের বিজ্ঞাপন টিভিতে কেন দিবেন? কারণ একটা নির্দিষ্ট শ্রেণীর জনগোষ্ঠীর কাছে আপনার পণ্য দ্রব্য সম্পর্কে একটা মেসেজ পৌছানো দরকার । অর্থাৎ আপনার টার্গেট পপুলেশন ঐ টিভি চ্যানেলের দর্শক হলেই আপনি বিজ্ঞাপন দেবার কথা চিন্তা করবেন । এখন ধরুন আপনি যদি একটি নির্দিষ্ট চ্যানেলে বিজ্ঞাপন দেবার মাধ্যমে আপনার টার্গেট কৃত পটেনশিয়াল কাষ্টমার দের কাছে আপনার মেসেজ পৌছাতে পারেন তাহলে আর অন্য চ্যানেলে যাবেন?সোজা বাংলায় উত্তর হলো না! সেটাই ঘটতে যাচ্ছে আমাদের ক্ষেত্রে! আমাদের বিশাল টিভি দর্শকদের বড় একটা অংশ এখন ষ্টার জলসা এবং জি বাংলা নামক দুটি চ্যানেলের সস্তা , নিম্ন মানের এবং অরুচিকর অনুষ্ঠানে আসক্ত ।(বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে যে গুলো বউ শাশুড়ি এর যুদ্ধ , পরকীয়া ইত্যাদি প্রমোট করে থাকে) এখন যদি লাক্সের মতো মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানি গুলো ষ্টার জলসায় বিজ্ঞাপন দিয়ে বাংলাদেশের এবং ভারতের , এই দুই দেশেরই পটেন শিয়াল কাষ্টমারদের কাছে তাদের মেসেজ পৌছে দিতে পারে তাহলে তারা কেন বাংলাদেশী চ্যানেল গুলো তে বিজ্ঞাপন দিবে? দিবে না! ফলে চ্যানেল গুলো বিজ্ঞাপনের রেট কমাতে বাধ্য হবে । ফলে অনুষ্ঠানের মান ও কমবে । নিম্ন মানের অনুষ্ঠানের আউট কাম হিসেবে আরো বেশী মাত্রায় দর্শক ওই চ্যানেল গুলোর অনুষ্ঠান দেখবে । ফলে একটা চক্রের মাঝে পরে আমাদের টিভি চ্যানেল গুলো বিপর্যস্ত হয়ে যাবে । আর বিজ্ঞাপন শিল্প?আরে ভাই যেখানে বিজ্ঞাপনই নাই সেখানে বিজ্ঞাপন শিল্প থাকবে কি করে? আমাদের বিজ্ঞাপন শিল্পতেও দাদা দের আগমন শুরু হয়েছে । একটি মোবাইল কোম্পানির রিসেন্ট বেশ কয়েক টি বিজ্ঞাপন ভারতীয় নির্মাতাদের দিয়ে তৈরী করা হয়েছে (যে গুলো আক্ষরিক অর্থেই অখাদ্য ছিলো) আর টিভি নাটকের কথা বুঝিয়ে বলার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না ।এটা এমনিতেই “Gone” একটা কেস হয়ে যাবে । আমি জানি না এই বিষয়টা মিডিয়ার সাথে যারা জড়িত তারা উপলব্ধি করতে পারছেন কিনা! কিংবা হয় তো উপলব্ধি করতে পারছেন কিন্তু যে কারণে ভারতীয় চলচিত্র আমদানি করাকে অনেকেই জায়েজ করার চেষ্টা করছেন সে একই কারণে তারাও চুপ আছেন!

২০১২ সালে একটি জাতীয় দৈনিক ন্যাশনাল মিডিয়া সার্ভের বরাত দিয়ে জানাচ্ছে , বাংলাদেশে টেলিভিশনের দর্শক ৯ কোটি ১২ লাখের মতো। এসব দর্শকের বয়স ১৫ বছরের ওপরে। শিশু যাদের বয়স ১৪ বছরের নিচে তাদের গোনা হয়নি। সে হিসাব নিলে দর্শক সংখ্যা ১১ কোটির মতো হতে পারে। এ দর্শকেরা তাদের প্রতি শত মিনিটের মাত্র ৩০ মিনিট বাংলাদেশের টিভি চ্যানেল দেখেন। এটি তারা দেখেন মূলত বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে। রাত ৯টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত হিন্দি চ্যানেলগুলোর দর্শক বেশি থাকে। বাকিটা তারা ব্যয় করেন ভারতীয় বাংলা/হিন্দি চ্যানেলের পেছনে। 

বিজ্ঞাপনের বেপার টা এখানেই শেষ করতে চাচ্ছিলাম ।শেষ করার আগে একটা ডেমো দেখাই?

যারা জানেন না তাদের জন্য বলে রাখি বিক্রয়.কম একটি অনলাইনে কেনা বাচা করা যায় এমন সেবা প্রদান কারী বাংলা দেশী ওয়েব সাইট! তাদের বিজ্ঞাপন স্টার জলসার ওয়েব সাইটে দেখে যারা কোমর বেধে গালাগালি করার জন্য তৈরী হচ্ছেন তাদের জন্য বলি এই বিজ্ঞাপন বিক্রয়.কম নিজেরা স্টার জলসাকে দেয় নাই ।কাজ টা করা হয়েছে গুগল এড এর মাধ্যমে ।সোজা বাংলায় গুগল এডের কাজ টা এখানে অনেক টা কনসালটেন্টের মতো মতো ।বিক্রয় ডট কম গুগল এড কে দায়িত্ব দিছে যে বাংলাদেশী ইউজার রা ব্যবহার করে এমন ওয়েব সাইটে আমাদের সাইটের বিজ্ঞাপন দিতে হবে ।গুগল দেখছে যে এই সাইটে বাংলাদেশ থেকে রেগুলার বেসিসে বেশ ভালো এমাউন্টের লোক জন ভিজিট করে ।সো তারা বিজ্ঞাপন দিয়ে দিছে!(সোজা ভাষায় বুঝানোর চেষ্টা করলাম ,বাস্তবের বিষয় টা আরো জটিল) অদূর ভবিষ্যতে টিভি মিডীয়াতেও এই ধরণের নমুনা দেখতে পাবেন ।এবং দেখানোর জন্য কাজ ও চলছে ।গত কিছুদিন যাবত “দুই বাংলা” মিলিয়ে ট্যালেন্ট হান্ট টাইপ কিছু প্রতিযোগিতার ব্যপারে আলাপ আলোচনা শুনতে পাচ্ছি । এমনকি দুই বাংলার শিল্পীদের নিয়ে নাটক নির্মাণের একটা ব্যাপারেও আলোচনা চলছে ভারতীয় একটি বাংলা চ্যানেলের উদ্যোগে বলে শুনা যায় । এ ধ র ণের উদ্যোগের মাধ্যমে শুধু মাত্র বাংলাদেশে এ চ্যানেল গুলোর  দর্শক আরো বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে ।যদি ওয়েব সাইটে তারা বাংলাদেশী প্রডাক্টের বিজ্ঞাপন নিতে পারে তাহলে একটু চেষ্টা চরিত্র করে টিভি চ্যানেলে বিজ্ঞাপন গুলো যদি আনা যায় দোষের কি?

বিজ্ঞাপন তো বিজ্ঞাপন ।ভারতীয় চ্যানেল গুলো তাদের চ্যানেল বাংলাদেশে প্রচারের জন্যও ক্যাবল অপারেটর দের কাছ থেকে আলাদা ফি নিয়ে থাকে ।

সাপ্তাহিক ২০০০ এ ২০১২ সালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ভারতীয় চ্যানেলগুলো বাংলাদেশ থেকে তাদের জনপ্রিয়তার মাপকাঠি অনুযায়ী ফি নিয়ে থাকে। সবশেষ হিসাব অনুযায়ী স্টার প্লাস বাংলাদেশ থেকে গ্রহণ করে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৯৭ হাজার ৭শ ৫০ টাকা। স্টার মুভিজকে প্রতিমাসে দিতে হয় ৯৬ লাখ ৮০ হাজার ৯শ টাকা। লাইফ ওকে নামক চ্যানেলটি প্রতিমাসে বাংলাদেশ থেকে নিয়ে থাকে ১ কোটি ২৩ লাখ ৭ হাজার ৫শ টাকা। জি স্টুডিওকে দিতে হয় ৭৭ লাখ ১২ হাজার ৭শ টাকা। জিটিভি নেয় ৫৪ লাখ ৯৭ হাজার ৩শ ৫০ টাকা। সনি টেলিভিশনকে দিতে হয় ১ কোটি ৯২ হাজার ১শ ৫০ টাকা। সেট ম্যাক্স নেয় ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬শ টাকা। স্টার গোল্ডকে পরিশোধ করতে হয় ৫০ লাখ ৫ হাজার ৫০ টাকা। জি সিনেমাকে দিতে হয় চাঁদার পরিমাণ ৭৭ লাখ ৯৪ হাজার ৭শ ৫০ টাকা। ৫৭ লাখ ৪৩ হাজার ৫শ টাকা নেয় স্টার স্পোর্টস চ্যানেল। বিফোরইউ নেয় ৪ লাখ ১০ হাজার ২শ ৫০ টাকা। জি প্রিমিয়ারকে দিতে হয় ৩১ লাখ ৯৯ হাজার ৯শ ৫০ টাকা। জি অ্যাকশন চ্যানেলের ফি-এর পরিমাণ ২৩ লাখ ৭৯ হাজার ৪শ ৫০ টাকা। জি ক্যাফে চ্যানেলকে দিতে হয় ১৫ লাখ ৫৮ হাজার ৯শ ৫০ টাকা। সাব (এসএবি) টিভি, তারা টিভি এবং তারা মিউজিক প্রত্যেকে নেয় ৪ লাখ ৯২ হাজার ৩শ টাকা করে। স্টার ওয়ান এবং স্টার ওয়ার্ল্ডের প্রত্যেকের চাঁদার পরিমাণ ১৮ লাখ ৮৭ হাজার ১শ ৫০ টাকা।  স্টার জলসা , জি বাংলার মাসিক ফি এর ব্যাপারে কোন তথ্য সাপ্তাহিক ২০০০ এ প্রকাশ করা হয় নি।(প্রত্যেকটি হিসাব মাসিক বাৎসরিক নয়) তো এবার প্রশ্ন উঠতে পারে আমাদের দেশের চ্যানেল যদি ভারতে প্রচারের ব্যবস্থা নেওয়া হয় তাহলে কি আমরাও এভাবে চাদা আদায় করতে পারবো? সোজা বাংলায় উত্তর না! ভারতীয় সম্প্রচার নীতিমালা আইন পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায় ভারতে স্যাটেলাইট টিভি দেখাতে হলে প্রথমে তথ্য কমিশনে আবেদন করতে হয়। এরপর সেখানে অফিস ও প্রতিনিধি দেখাতে হয়। প্রতিনিধির কাছে অন্তত ১ কোটি রুপির সম্পত্তি দেখাতে হয়। এরপর কেবল অপারেটরকে টাকা দিয়ে (যেখানে তারা আমাদের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছে!!) চ্যানেল দেখাতে হয়(সাপ্তাহিক ২০০০)

এবার আসি মুভি ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে । এবিষয়ে আগেও আলোচনা করছি । আলোচনার পরিসর কম হওয়াতে  খুব সংক্ষেপে প্রাসঙ্গিক কিছু বিষয় নিয়ে আবার কথা বলি ।দাবি করা হচ্ছে দেশের মৃত প্রায় চলচিত্র শিল্প কে বাচানোর জন্যই ভারত এগিয়ে এসেছে । বাস্তবতা হলো টালিউডের বাংলা মুভি তাদের প্রোডাক্ট হিসেবে তাদের গ্রোথ এর স্টেজ পার করে এসেছে ।এখন তাদের ডিক্লেনিং শুরু হবে। তাদের নিজেদের মার্কেট থেকেই তাদের প্রডাকশন কষ্ট উঠানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে । তামিল মুভির রিমেক , সুন্দরী নায়িকা আর ঝক ঝকে প্রিন্ট দিয়ে আর দর্শক টানা যাচ্ছে না । মার্কেট থেকে পাওয়া প্রফিট এর সাথে ছবি তৈরীর খরচ খাপ খাচ্ছে না । ফলে একটা বাজে অবস্থা তাদের সামনে আসতে যাচ্ছে । ফলাফল সরূপ বাধ্য হয়ে তাদের মার্কেট এক্সপানশন করতে হবে । কোন নতুন মার্কেট এ প্রোডাক্ট এন্ট্রি করানোর সময় যে জিনিস গুলো কে সবচেয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয় সে গুলোর মাঝে উল্লেখ যোগ্য হলো ১ মার্কেটে পটেনশিয়াল কাষ্টমার (মার্কেটে কি পরিমাণ কাস্টমার আছে) এবং ২ পসিবল কম্পিটিশন ( প্রোডাক্টটা মার্কেটে কি ধরণের কম্পিটিশন ফেস করতে পারে) সোজা কথায় বলি আমাদের বাংলাদেশে এই মুহুর্তে ভারতীয় বাংলা মুভির একটা বিশাল পটেনশিয়াল মার্কেট আছে ।আর এই মুহুর্তে বাংলাদেশের বাংলা মুভি ভারতীয় বাংলা মুভির সাথে কম্পিটিশন করার মতো অবস্থায় নাই! কেন নাই?এই প্রশ্ন মুভি সংশ্লিষ্ট লোকদের করার আগে সরকার কে করেন! কেন কোন সরকারই (আই রিপিট কোন সরকারই) বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত এক টা ফিল্ম ইন্সটিটিউট করার উদ্যোগ নিতে পারলো না? বাংলাদেশের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে সরকারের অনুদান কতো? ব্যাংক গুলা কি ধরণের সাহায্য দেয়? সিনেমা হল গুলোর আধুনিকায়নে সরকারের কোন ভুমিকা ছিলো কি না?সবগুলো প্রশ্নের নেতি বাচক জবাব পাবেন!এতো গুলো নেতি বাচক জবাব নিয়ে কেমনে আশা করেন আমাদের চলচিত্র ভারতীয় চলচিত্রের সাথে পাল্লা দিবে? যাই হোক !আমাদের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি খুব বাজে একটা সময় পার করছিলো যার মূল কারণ কোন সরকারই (আই রিপিট কোন সরকার ই) এই খাতে মনোযোগ দেবার প্রয়োজন বোধ করে নি ! আমার কেন এন মনে হয় আমরা সেই বাজে সময়টা আস্তে আস্তে কাটিয়ে উঠতেছি । বাজে সময় কাটিয়ে উঠার উদাহারণ হিসেবে আমি শুধু মাত্র  নিঃসার্থ ভালোবাসা বা ভালোবাসা আজকালের ব্যবসা সফল হবার কথা বলবো না ।আমি বলবো যে চেঞ্জ টা শুরু হয়েছে সেটার কথা । ইনভেস্টমেন্ট আসছে ।রেদোয়ান রনির মতো ছেলে পেলে মুভি পরিচালনায় আসছে । আরেফিন শুভ এর মতো ছেলে পেলে যখন রেগুলার মুভি করার ইচ্ছা জানায় ভাবতে ভালোই লাগে ।একটা চেঞ্জ শুরু হয়েছে ।আমাদের শুধু একটু সময় দরকার ।এই এক-দুই বছর!আমরা ঠিক ঘুড়ে দাড়াতে পারবো!

তো এই চেঞ্জের মাঝে ভারতের সাথে চলচিত্র বিনিময় চুক্তি করা( যার আওতায় শুধু কলকাতা না বলিউডের মুভি ও আসবে সরি আসবেনা চলে এসেছে) আমাদের জন্য আক্ষরিক অর্থেই বাংলা বাশ (পারডন মাই ল্যাংগুয়েজ) বলে আমি মনে করি ।এই মুহুর্তে আমাদের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি ভারতীয় চলচিত্রের সাথে প্রতিযোগিতা করার অবস্থায় নাই ।আমাদের ইন্ডস্ট্রি কেবল একটা শেপ পেতে শুরু করেছে , কেবলই কিছু ইনভেষ্টমেন্ট আসতে শুরু করেছে এই অবস্থায় এই ধরণের সিদ্ধান্ত পুরাই আত্মঘাতী ।  আমি একটু সময় দিলেই আমাদের ইন্ডাস্ট্রি দাড়িয়ে যাবে । প্রশ্ন উঠতে পারে  ভারত বন্ধু প্রতীম রাষ্ট্র হিসেবে ( :v ) যে সাহায্য এর হাত বাড়িয়ে দিয়েছে তা কি আমরা গ্রহণ করবো না? অবশ্যই ! অবশ্যই !তারা তাদের ফিল্ম ইন্সটিটিউটে আমাদের তরুণ নির্মাতা আর কলা-কুশলী দের জন্য স্কলারশিপের ব্যবস্থা করতে পারে ।তারা আমাদের ফিল্ম ইন্সটিটিউট খুলতে সাহায্য করতে পারে । কেমন করে সিনেমা হল গুলোর পরিবেশের উন্নয়ন ঘটানো যায় সে ব্যপারে সাহায্য করতে পারে । আর আমাদের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি তে তাদের কন্ট্রোবিউট করার এতো আগ্রহ থাকলে যৌথ প্রযোজনার ছবি বানানোর উদ্যোগ নেওয়া হোক । বন্ধু যখন সাহায্য করতে আসছে তখন তো তার কাছ থেকে সাহায্য না নেওয়া তাকে অপমান করার শামিল!

শেষ প্রশ্ন হিসাবে যা আসতে পারেঃ“ভাই এভাবে আর কতো দিন? আমাদের দেশে না হয় এই মুহুর্তে ভারতীয় চলচিত্র আর চ্যানেল ঢুকা বন্ধ করলেন ।কিন্তু এভাবে কত দিন অফ রাখবেন ?” উত্তর হলোঃ ৩ বছর ভারতীয় টিভি চ্যানেল আর চলচিত্র এ দেশে বন্ধ রেখে এই খাত গুলোতে সরকারী সাহায্য বাড়ানো হোক ।তিন বছর পর এই আমাদের চলচিত্র ভারতের সাথে পাল্লা দেবার পর্যায়ে পৌছাবে । ইনশাল্লাহ! কিন্তু তার আগ পর্যন্ত কোন বিনিময় চুক্তি নয়!(সেটা টিভি চ্যানেল হোক আর চলচিত্র হোক) ।